Logo

স্বপ্ন যখন সত্যি হয়- উদ্যোক্তার কন্ঠ

উদ্দ্যোক্তার কণ্ঠ / ৩৯১ পড়ছে.
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ, ২০২২

আমরা সফলতার গল্প শুনতে খুব ভালোবাসি, কিন্তু সফলতার পিছনের গল্প গুলো?? আমরা অনেকেই জানিনা। সফলতার মেইন সুত্র বিশ্বাস। মনে প্রানে যেটা বিশ্বাস করা যায় সেটা ঘটে। আমরা যদি বিশ্বাস করতে পারি আমরা একটা কাজ এ সফল হবো, শুধু মাত্র এই বিশ্বাস টা ধরে রাখতে পারলেই সফল হওয়ার চান্স তরতর করে বেড়ে যায়।

হ্যা, স্বপ্ন যখন সত্যি হয় তখন মনের অবস্থা টুকু কেমন হয় তা মুখে বলার মতো নয়। যে স্বপ্নটা আজ থেকে কয়েক বছর আগে দেখেছিলাম আল্লাহ আজ এর বাস্তব থেকেও বেশি কিছু দিয়েছেন।

ছোটবেলা থেকেই একটা ইচ্ছা কাজ করতো
আমাকে কিছু একটা করতে হবে
সেই সুবাদে ২০১৪  থেকে অনলাইনে অনেক কিছু ঘাটাঘাটি করতাম।
সেই সাথে স্বপ্ন ছিল আমিও একদিন একটা অফিসের বস হব/সিইও হবো। সবাইকে নিয়ে কমিউনিটি বিল্ডাপ করে কাজ করব।সেই স্বপ্নের তাড়নায় অনেক কিছুর পিছনে ছুটেছি।অনেক কিছুতে লসও করেছি। হেরে গিয়েছি বাট আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। কারন তখন মাথায় একটা জিনিসই কাজ করতো।
আমাকে কিছু করতে হবে”
২০১৭ সালে কোনো একদিন চায়ের আড্ডায় বন্ধুদেরকে নিয়ে প্লান করলাম অনলাইনে একটা কাপড়ের বিজনেস করলে কেমন হয়? সবাই আমার কথা শুনলেও পাত্তা দেয় নি কেউ,
সবাই ব্যাপারটা এরিয়ে গেলো।
মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল।নিজের ভিতরের জিদ  নাড়া দিয়ে উঠলো।আমি সেই ইগনর করা থেকে আরও বেশি স্ট্রং হলাম।
শুরু করলাম অনলাইনে ঘাটাঘাটি। কোনো একদিন একটা রিসেলার প্লাটফর্মে হঠাৎ করে যুক্ত হয়ে যাই।
কমিশনের ভিত্তিতে খুচরা  কাপড় সেল করি। কিন্তু সেই প্লাটফর্মের সাথে দিন ভালো যাচ্ছিল না।কারন উনারা কাপড়ের যে রিসেল প্রাইজ দিত ঐ দামে অন্য জায়গায় খুচরা  পাওয়া যেতো। তার থেকেও বড় সমস্যা ছিল কোয়ালিটি খুব খারাপ ।ডেলিভারি সার্ভিসটা খুব বেশি ভোগান্তি দিত। কাষ্টমার রিভিউ অনেক খারাপ আসতো।যেকারনে বিজনেসের রেপুটেশন কমতে শুরু করল।নিজের অবস্থা
পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল। আমার মতো অনেকেই সেজন্য ঐ  রিসেল প্লাটফর্মে আর কাজ করেনি। মনের ভিতরের জিদ ও ক্ষুভ খুব বেশি বাড়তে থাকলো।কারন ঐ রিসেল গ্রুপের জন্য আমার অনেক কাষ্টমার হাতছাড়া হয়েছিল।
তারপর মনে মনে শপথ করলাম বিজনেসটা এমন ভাবে করব যাতে করে আমার দ্বারা অন্যের ক্ষতি  না হয়।

হঠাৎ করেই একদিন স্বপ্ন পূরণের  জাদুর কাটির মতো আমার সামনে চলে আসে প্রিয় মেন্টর ইকবাল বাহার জাহিদ স্যারের একটি ফেইসবুক পোষ্ট। ভালো করে ২/৩ বার পড়লাম পোষ্টটি। অনেক ভালো লাগল।
“নিজের বলার মতো একটা গল্প” ফাউন্ডেশন
নামটা শুনেই কেমন একটা অনুভূতি কাজ করছিল নিজের মধ্যে। তারপর  থেকে গ্রুপে যুক্ত হয়ে গেলাম। স্যারের সেশন গুলো বার বার দেখতে লাগলাম। মনে হচ্ছিল নিজের স্বপ্ন পূরণের আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে গেলাম। সব থেকে বড় কথা হলো স্যারের সেশন গুলো থেকে আমি যে অনুপ্রেরণা পেয়েছি তাই হলো আমার উদ্যোক্তা হওয়ার প্রধান হাতিয়ার।
সেই সুবাদে সাহস করে লেগে গেলাম আমার স্বপ্ন পূরণের আশায়। আমি উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে ফ্যামিলির ডিরেক্ট কোনো সাপোর্ট ছিল না। সবাই চাই তো আমি ভালো একটা চাকরি করি।কিন্তু চাকরী আমার ভালো লাগতো না। পরিবারের মতের বিরুদ্ধে থাকায় Financial কোনো সাপোর্ট পেলাম না।
তাই টিউশনির ৩৮০০ টাকায় শুরু হয় আমার উদ্যোক্তা জীবন।
এই টাকা দিয়ে হোলসেলে কিছু শীতের পোশাক কিনে আনলাম। আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো সাড়া পাচ্ছিলাম। ধীরে ধীরে বিজনেস বাড়তে থাকলো। যত এগোচ্ছিলাম তত অভিজ্ঞতা বাড়ছিল।
হঠাৎ করে একদিন একজন ম্যানুফেকচারারের একটা প্রোডাক্টের দাম জিজ্ঞেস করে উনাকে ফোন দিলাম।উনি Export  কোয়ালিটির কয়েকশো পিচ টি-শার্ট সেল করার জন্য রিসেলার  খুঁজছিলেন। উনি মোটামুটি কম দামে উনার টি-শার্ট সেল করে দিবেন। তার সব কিছু শুনে আমি  প্রস্তাবে রাজি হলাম।
তারপর টি-শার্টের পিকচার নিয়ে আমাদের প্রিয় গ্রুপে ( নিজের বলার মতো একটি গল্প ফাউন্ডেশন)  সেল পোষ্ট করলাম। আলহামদুলিল্লাহ কয়েক ঘন্টা পর গ্রুপের একজন ভাইয়া নক দিয়ে বলল উনার ভাই সৌদি আরবে বিজনেস করেন। ঐখানে দেওয়ার জন্যে কিছু ভালো টি-শার্ট লাগবে।আমার টি-শার্ট গুলো উনার খুব ভালো লেগেছে। তারপর আমি অল্প কিছু টাকা প্রফিট করে ১০০ পিচ টি-শার্ট সেল করে দিলাম। এটাই ছিল গ্রুপে প্রথম সেল পোষ্টের প্রথম সেল।
এক জন বড় ভাই ও ১/২ জন ফ্রেন্ড ছাড়া অনেকেই অনলাইনে আমার বিজনেস দেখে হাসি তামাসা করছিল কিন্তু  আমি তাদের ব্যবহারে থেমে যাই নি। স্যারের শিখানো পজিটিভ মাইন্ডে ছিলাম।মনে মনে জিদ হচ্ছিল। জিদ টাকে আরেকটু বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।আর মনে মনে উত্তর দিচ্ছিলাম কথা দিয়ে নয় আমি আমার এই কাজ দিয়ে একদিন উত্তর দেবো তোমাদেরকে।
তারপর আমার বিজনেস স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল।
তখন করোনার মহামারী সবে মাত্র আবির্ভাব হয়েছিল।তাই অফিস / কলেজ/ স্কুল সব কিছু বন্ধ ছিল। তখন প্রায় বেশির ভাগ মানুষ অনলাইনে কাপড়ের বিজনেসে ঝুঁকে পরেছিল। আমি ভাবলাম সবাই যখন খুচরা সেল করছে তখন খুচরা সেলারদের প্রতিযোগি বেড়ে যাচ্ছে। যে কারনে সেলটা একটু কম আসছিল। তখন চিন্তা করলাম আমি যদি কোনো গার্মেন্টস থেকে প্রোডাক্ট এনে হোলসেল করতে পারি সেটা ভালো হয়। কারন তখন অনেক কাষ্টমার পাব।যেই ভাবা সেই কাজ।একটা গার্মেন্টসের সাথে কথা বললাম উনারা আমাকে প্রোডাক্ট দিতে রাজি হল।সেই সাথে উনাদের সাপোর্ট ছিল অসাধারণ।আর পিছনে থাকাতে হয় নি আমাকে। ঐ বছর ১/২ লক্ষ টাকার কাপড় সেল করছিলাম শুধু হোলসেলে।
তারপর থেকে আস্তে আস্তে বিদেশি বায়ার পেতে শুরু করলাম।
আলহামদুলিল্লাহ আমার প্রথম  কাষ্টমার যেমন  ছিলেন আমাদের প্রিয় প্লাটফর্মের তেমনি প্রথম বিদেশি বায়ারও ছিলেন আমাদের গ্রুপের।
তিনি মালয়েশিয়াতে ১ লক্ষ  ২৮ হাজার টাকার পলো টি-শার্ট নিয়েছিলেন।

শুরু হতে লাগল আমার বড় বড় বাহিরের সব অর্ডার। ফ্রান্স/দুবাই/শ্রীলংকা/
সেই সাথে দেশের ভিতরের ছোট ছোট কিছু অর্ডার।

২০২১ সাল নিজে প্রতিষ্টা করলাম আমার স্বপ্নের fill up নিজের Brand এ কিছু কাপড়ও তৈরি করেছিলাম।
মহান আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া,
কয়েকদিন আগে আবার মালয়েশিয়াতে ৩ লক্ষ ২৯ হাজার টাকার একটা অর্ডার কনফার্ম হয়েছে।

তাছাড়াও দুবাইয়ের এর  থেকেও  একটা  বড় অর্ডার Pending  এ আছে। আশা করি সেটাও কনফার্ম হবে।ইনশাআল্লাহ।

উদ্যোগতা হওয়ার জন্য যে কতটুকু  পরিশ্রম করতে হয় তা শিখেছিলাম প্রিয় ইকবাল বাহার জাহিদ স্যারের কাছে থেকে।
স্যারের পজিটিভি/ভালো মন-মানুষিকতা/সবাই নিয়ে কাজ করা এই গুন গুলো আমাকে খুব  বেশি হেল্প করেছে উদ্যোগতা হতে।
আমি কতটা সফল হয়েছি আমি জানি না কিন্তু যেই লোকগুলো আমার উদ্যোগতা লাইফকে তিরস্কার করেছিল, তাদের কিছু না হলেও জবাব দিতে পেরেছি।
আপনাদের দোয়ায় একটা অফিস করেছি নিজ হোম টাউনে।মাসিক সেল ২/৩ লক্ষ টাকা( Average)
এখন ৭/৮ জন  আমার রিসেলার হিসেবে কাজ করছে।তাছাড়াও নতুন উদ্যোগতা ভাই-বোনদেরকে সব সময় সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করি। যাতে করে তারাও তাদের স্বপ্নগুলো পূরনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারে।

লিখেছেন
গোলাপগঞ্জ সিলেট থেকে
মোঃ সাইদুল ইসলাম উজ্জ্বল
সিইও এবং ফাউন্ডারঃ Fill Up
কাজ করছেন রেডিমেট গার্মেন্টস নিয়ে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category

Archives

Theme Created By Tarunkantho.Com