সফল মানুষেরা যে সব বিষয় সব সময় গুরুত্ব দিয়ে থাকেন

সফল ব্যক্তিদের কিছু গুণ থাকে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তারা সব সময় অপরকে যে কোনভাবে পারে সাহায্য করে থাকেন, আর অসফলরা আগে দেখেন- এতে আমার লাভ কোথায়।

যারা সফল তারা এক দিনে সফল হয়নি এবং যে কোন একটি বিষয় ফলো করে হয়নি তারা সব সময় এমন কিছু বিষয় মেনে চলেন যার কারণে তারা সফল।
সফল মানুষেরা সাধারণ কতগুলো সফল হবার অভ্যাস নিয়মিত পরিচর্যা করেন।
আপনি কোন অবস্থান থেকে উঠে এসেছেন এটা বড় কথা নয়, আপনি কোথায় নিজেকে নিয়ে যেতে চান সেটাই আসল ব্যাপার।

আপনি নিজে যেটা পারবেন মনে করেন, সেটা বাস্তবে রূপ দেয়া সম্ভব। আমি পারবো এটা মনেপ্রানে চাইতে হবে আগে।

কথাগুলো বলেছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন মোটিভেশনাল স্পিকার ও ক্যারিয়ার কোচ ও বিজনেস এক্সপার্ট কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন লেখক ব্রায়ান ট্রেসি।

তার লেখা প্রায় ৮০টির ও বেশি বই বিশ্বের প্রায় এক ডজনেরও বেশি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় কতগুলো বই হচ্ছে-

১. ইট দ্য ফ্রগ,
২. দ্য সাইকোলজি অফ সেলিং,
৩. গোল,
৪. সেলস ম্যানেজমেন্ট,
৫. মিলিয়ন ডলার হ্যাবিট,
৬. টাইম ম্যানেজমেন্ট।

সময়ের ব্যবহার কে কিভাবে করছি সেটাই একজন সাধারণ মানুষের সাথে একজন অত্যন্ত সফল মানুষের পার্থক্য গড়ে দেয়। সময়ের সঠিক ব্যবহার দ্বারা আমরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে এগিয়ে যেতে পারি আর ব্যক্তিগত, সামাজিক, কার্যক্ষেত্রে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে পারি। সময়কে কাযে লাগাতে গেলে চারটি জিনিসের প্রতি গুরুত্ব আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন মিঃ ট্রেসি।
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. সিদ্ধান্ত,
৩. সংকল্প,
৪. শৃঙ্খলা।

আকাঙ্ক্ষার

আকাঙ্ক্ষার মাত্রা তীব্র থাকতে হবে যাতে যেকোনো অবস্থাতেই আমি জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পারি। আপনার মনে সব সময় অর্জন করা ব্যপক আকাঙ্ক্ষার থাকতে হবে। তাহলে আপনার কাজের গতি অনেকটা বাড়বে। কোন কাজেই ক্লান্তি আসবে না।

সিদ্ধান্ত

যে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করার আগে আপনাকে অবশ্যই বেশ কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা না হলে কাংক্ষিত সময়ে সেই লক্ষ্য পৌছানো সম্ভব না।
কিছু কিছু সিদ্ধান্ত জীবন পরিবর্তন করে দেয় তবে সেটা অবশ্যই সঠিক সময়উযোগি হতে হবে।
সময়নিষ্ঠ থাকার ব্যাপারে স্পষ্ট ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সংকল্প

কিছু বিষয়ে আপনার সংকল্পে সব সময় সঠিক ও স্থির থাকতে হবে, তাহলে ভালো একটি অবস্থা তৈরী করা সম্ভব।
যতই বাধাবিঘ্ন আসুক সময়ের সদ্ব্যবহার করার ব্যাপারে সংকল্পে অটল থাকতে হবে।

শৃঙ্খলা

শৃঙ্খলা ছাড়া জীবনে কোন কিছুই সঠিকভাবে অর্জন করা যায় না, সব কিছুতেই শৃঙ্খলা অনেক জরুরি।
সময় ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শৃঙ্খলা। একই সময়ে একটি ছোট ব্যবসায়ী যেই কাজগুলো ম্যানেজ করেন একজন বিলিয়নার তার চাইতে অনেকগুন বেশি বিষয় হ্যান্ডেল করেন। এটা সম্ভব হয় কিভাবে? উত্তর হচ্ছে তারা অনেক বেশি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপন গতিতে প্রতিনিয়ত সময়টাকে কাজের গন্ডিতে আটকে রেখে এগিয়ে যান।

আর দশটা ব্যবসায়িক বা কর্মদক্ষতার মতোই সময়ের সঠিক ব্যবহারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসিক দক্ষতা। নিজেকে তাই বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে হবে।

আমার জীবনের প্রতিটি দিন, ঘন্টা, মিনিট, সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যতগুলো ঘন্টা আমার নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবো আর কাজে লাগাবো আমি ততই এগিয়ে যেতে পারবো।

লিখেছেন
আরিফ কাজী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *