সারাদিন কতটুকু সময় কাজে আসছে

সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথম কি করেন?এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিলো একদল ব্রিটিশ গবেষক। স্মার্টফোন হাতে নিয়ে নোটিফিকেশন চেক করা দিয়েই শতকরা ৭০% মানুষের দিন শুরু হয় বলে জানিয়েছেন তারা এক সমীক্ষার রিপোর্টে। প্রতিদিন একজন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এভারেজে প্রতি ১২ মিনিট পরপর নোটিফিকেশন চেক করেন।

গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করা, নরমাল মুডে কাজ আবার রিলাক্সড মুডে কাজ করা সবই আজকাল নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে স্মার্টফোন দিয়েই। একসাথে সব কাজের সুযোগ থাকায় এটি কর্মক্ষেত্রে যেমন এনে দিয়েছে ফ্লেক্সিবিলিটি অপরদিকে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই কোন সময় কি কাজ করতে হবে তা নিয়ে।

কিভাবে স্মার্টফোনে কাজের এই শিডিউল আমরা মেইনটেইন করতে পারবো?

মাল্টিটাস্কিং না করার পরামর্শ দিয়েছেন সেই ব্রিটিশ গবেষকদল। গভীর মনোযোগ দিয়ে একটি পোস্ট পড়ছেন, এর মধ্যে ব্রেক দিয়ে ইনবক্স চেক করবেন না। নোটিফিকেশন আসলেও আপনার মনোযোগ যেন পড়ার দিকেই থাকে এ সময়।

পড়ার মাঝে মাঝে গ্যাপ দিয়ে একটু রিলাক্স করতে পারেন ও সেই সময়ে ইনবক্স, নোটিফিকেশন চেক করতে পারেন। প্রতি ১৫ মিনিট পরপরই আমাকে কাজের গভীর মনোযোগ বিঘ্ন ঘটে। চাইলে ১৫ মিনিট গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজের পর সামান্য ব্রেক দিয়ে আবারো আগের কাজে ফিরে আসতে পারি।

কাজের মনোঃসংযোগ বাড়াতে হলে এই ১৫ মিনিটের স্প্যান চর্চা করে বাড়াতে হবে। কারণ এই ১৫ মিনিটের মধ্যে শুরুর কয়েকমিনিট ব্যয় করতে হয় ডিপ লেভেলের কাজে ব্রেইনকে বা চিন্তাকে কনসেনট্রেট করতে। আবার শেষের দিকেও মনোযোগের গভীরতা কমে যেতে থাকে। এতো গেলো স্মার্টফোন এর নোটিফিকেশন ছাড়া। নোটিফিকেশন চালু থাকলে এই ১৫ মিনিট সময়ের মধ্যেই আপনার আরো ২ বার মনোযোগ ব্যহত হতে পারে। অর্থাৎ ১৫ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ মিনিট আমরা গভীর মনোযোগ দিতে পারি। বাকি ১০ মিনিট আর ব্রেক টাইম আমাদের কোনো ইফেক্টিভ আউটপুট দিতে পারে না।

আরো কিছু সাজেশন দিয়েছেন তারা। যেমনঃ
★ মনোযোগ বৃদ্ধি করতে মেডিটেশন করতে পারেন।

★ বারবার ঘড়ি দেখার অভ্যাস থাকলে বাসায় দেয়ালঘড়ি সচল রাখুন।ঘড়ি দেখতে গিয়েই স্মার্টফোনে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করা খুব সাধারণ ঘটনা।

★ পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ব্যায়াম ও ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

★ ঘুমানোর আগে বইপড়ার অভ্যাস আপনাকে অপ্রয়োজনীয় এয়্যাপস এর ব্যবহার থেকে অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে।

 

লিখেছেন

আরিফ কাজী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *