সঠিক কৌশল উদ্যোক্তাকে সফল ব্যবসায়ি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে

একজন উদ্যোক্তার সফলতার জন্য ব্যক্তিত্ব এবং ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনা মূল লক্ষ্য হিসেবে কাজ করে। প্রচুর অর্থ সম্পদ এবং অনেক বেশি জনবল দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয় না।আমাদের অর্থ-সম্পদ এবং জনবলকে সঠিক জায়গায় সঠিক সময়ে ব্যবহার করার জন্য সেই বুদ্ধিমত্তা এবং উপস্থিত জ্ঞান থাকাটা অনেক বেশি জরুরী। কারণ আমরা অনেক সময় দেখি অনেক বেশি অর্থ দিয়ে তৈরিকৃত প্রতিষ্ঠান অল্পদিনের মধ্যেই যথার্থ মুনাফা না আসার কারণে   বন্ধ করে দেয়া হয়। কারণ সেই প্রতাষ্ঠানে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় নি। অনেক বেশি জনবল এবং অর্থ তখনই একজন উদ্যোক্তাকে  সফলতা অর্জনের সহায়ক ভূমিকা পালন করে যখন তার সঠিক ব্যবহার করা হয়। আর এর জন্য চাই ভিন্ন ধর্মী উদ্যোগ।যেমন আমরা লক্ষ করি অনেক বেশি জনবল নিয়োগ না দিয়েও একটি কাপড়ের দোকান পরিচালনা করা সম্ভব হয়। যখন ঐ দোকানে মূল্য নির্ধারণ বারকোড  ব্যবহার করে।যেখানে ক্রেতা তার পছন্দের জামা কারো সাহায্য ছাড়াই শুধু মাত্র কেশিয়ারের কাছে বারকোটটি স্কেন করিয়ে মূল পরিশোধ করতে পরে। এতে করে অতিরিক্ত কোন লোকবল নিয়োগ দরকার হয় না। অল্প কিছু লোকবলের মধ্যেমে আমরা একটি কাপড়ের দোকান বা সোপ পরিচালনা করতে পারি। তেমনিভাবে আমরা শুধু সঠিক পরিচালনার মাধ্যমে প্রচুর মূলধন বিনিয়োগ না করেও আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি। তার জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে পরিচালনা করার জন্য নতুন নতুন আইডিয়া। ক্রেতার মন জয় করে আমরা আমাদের পণ্য গুলো সঠিক সময়ে সঠিক মূল্যে বিক্রয় যোগ্য করে তুলতে পারি। এর জন্য প্রচুর লোক বলে প্রয়োজন হয় না শুধুমাত্র প্রয়োজন হয় সঠিক পরিচালনা। ক্রেতা ধরে রাখার জন্য আমাদেরকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। ক্রেতার চাহিদা মাফিক পণ্য সরবরাহ করতে হবে।যাতে করে একজন ক্রেতা আপনার দোকানেই তার চাহিদা মাফিক পণ্যটি পাবে এমন ভরসায় বারবার আপনার কাছে ফিরে আসে। দীর্ঘসময়ের ক্রেতাকে আপনার দোকান মুখী করে রাখা। যেমনটা আমরা দেখি বিভিন্ন

আপনার প্রতিষ্ঠান হবে গুছালো

সুপারমার্কেট ,হাইপারমার্কেট কিংবা সুপারশপগুলোতে। আমরা অনেকেই হয়তো লক্ষ্য করি না ।আমরা যে সকল সুপারমার্কেট কিংবা হাইপারমার্কেট এ মার্কেটিং এর জন্য যাই সেখানে কোন ধরনের ঘড়ি কিংবা জানালা দেখতে পাই না। এর কারণটা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা।আর এই কারণটা জানা আমাদের অত্যন্ত জরুরী ক্রেতাদেরকে দীর্ঘ সময় আমাদের কাছে রাখার জন্য। ঘড়ি কিংবা জানালা না দেয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে কেতা যাতে কখনোই বুঝতে না পারে সে দীর্ঘ সময় ধরে আপনার মার্কেটে ঘোরাঘুরি করছে। যা ঘড়ি না থাকার কারণে তার চোখে পড়ছে না সে কতটা সময় ধরে আপনার মার্কেটে ঘোরাঘুরি করছে। জানালা না থাকার কারণে সে কখনো বুঝতেই পারে না বাইরে বর্তমান পরিস্থিতি কিরকম আছে। তাই সে ভুলেই যায় সে দেখতে দেখতে ঘন্টা

পণ্য সেল করার কৌশল

দু ঘন্টা -তিন ঘন্টা সময় আপনার মার্কেটিং পার করে দিয়েছে। এতে করে সে নিজের অজান্তেই অনেকগুলো পণ্য তার ঝুড়িতে ভরে ফেলেছে। তার মধ্যে বেশিরভাগ পণ্যই হবে তার জরুরী অপ্রয়োজনীয়’। আরও একটি জিনিস আমরা মার্কেট হয়তো লক্ষ্য করি কিংবা অনেকেই করিনা। যেমন যেখানে কেশিয়ার অবস্থান হয় অর্থাৎ মার্কেটের সম্মুখভাগে বাচ্চাদের খেলনা অথবা চকলেট এরকম ধরনের জিনিসপত্র রাখা হয়। যাতে করে ক্রেতার সাথে চলে আসা যাক ছোট বাচ্চাটি নজর প্রথমেই চকলেট কিংবা খেলনার দিকে যায়। এবং বাচ্চাগুলোর আবদার রাখতে গিয়ে তার বাবা-মা  খেলনা বা চকলেট কিনে দিতে এক প্রকার বাধ্য হয়ে যায়।আর এটাই হচ্ছে পন্য বিক্রয় করার কৌশল। আরেকটা জিনিস হয়তো আমরা অনেকেই লক্ষ্য করি না। যেমন সুপারমার্কেট হাইপারমার্কেট কিংবা সুপারশপগুলোতে মানুষের জরুরী প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলো হাতের নাগালের মধ্যে রাখা হয়না অর্থাৎ মার্কেটের সামনের বাগে রাখা হয় না এর কারণ হলো ক্রেতার চাহিদা মাফিক পণ্যটি খুঁজতে খুঁজতে মার্কেটের লাস্ট সেলফি পৌঁছানোর আগেই অনেকগুলো পণ্য তার চোখের সামনে পড়বে এতে করে প্রয়োজন ছাড়াই শুধু পছন্দ হওয়ার কারণে ওই পণ্যটি তার ঝুড়িতে বা ট্রলি তে ভর্তি করে ফেলবে। একজন পণ্য বিক্রেতার তার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশল। এমন আরও অনেক কৌশল আছে যা আমাদেরকে জানতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। শুধুমাত্র অধিক জনবল এবং প্রচুর অর্থবিত্ত দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো যায় না যদি না এরমধ্যে নতুনত্ব কিছু না থাকে। অর্থাৎ নতুন কৌশল।

★ক্রেতা বিক্রেতা মধ্যে মধুর সম্পর্ক

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রগতির জন্য ক্রেতা এবং বিক্রেতা এর মধ্যে মধুর সম্পর্ক না হলে বড় আকারের সুপার শপ ,সুপারর্মল তৈরি করে অধিক জনবল নিয়োগ করে কোন প্রকার বেনিফিট আশা করা যায় না। আমাদের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান তার মূল লক্ষ্যে তখনই পৌঁছাতে পারবে যখন তার কৌশল গুলো হবে ভিন্ন। একমাত্র কৌশলী এনে দিতে পারে আমাদেরকে সঠিক সাফল্য। জনবল কিংবা প্রচুর অর্থ বিত্ত নয়।

সময় নিয়ে শুরু করুণ

আমরা অনেকেই নতুন কোন বিজনেস আইডিয়া মাথায় আসার সাথে সাথেই শুরু করে দেই আগে পিচে কোন কিছু তেমন ভাবি না,, বিষেশ করে আমাদের দেশের নতুন উদ্যোক্তারা এই কাজটি বেশি করে থাকেন, শুরু করার  পরবর্তীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখায় তারা আর মার্কেটে বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না।
এই ভুল টির কারণেই বেশির ভাগ উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারে না।
যে কোন উদ্যোগ বা বিজনেস শুরু করার আগে বিষয় টা নিয়ে বেশ কিছু দিন ভাবতে হবে মার্কেট বিশ্লষণ করতে হবে যে আমরা কিভাবে পণ্য টি মার্কেটে বাজারজাত করবো সেটা হতে হবে অন্যদের থেকে ইউনিক এবং তার ফলে আমরা কিভাবে কাচা মাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাজারজাত পযন্ত বেশ কিছু দিন বিষয় টা নিয়ে ঘবেষণা করতে হবে। তারপর অল্প আকারে শুরু করতে হবে। কারণ যদি আপনার ঘবেষণা ও প্লানিং ভুল থালে তাহলে আপনি অল্পতেই লস টা পুষিয়ে উঠতে পারবে,,
আর যদি দেখেন ভালো কিছু হয়ে আসছে তাহলে আপনার আত্ববিস্বাস অনেকটা বেড়ে যাবে আপনি নিশ্চিন্তে বড় আকারে শুরু করতে পারবেন তখন আপনার উদ্যোগের ভিতটা হবে অনেক মঝবোত।
তাই যে কোন উদ্যোগ হুট করে শুরু না করে  সেই বিষয় টা নিয়ে বেশ কিছু দিন রিসার্চ করবো এবং ছোট আকারে শুরু করবো।

★উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ

যে কোন উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরু করার আগে দরকার সেই বিষয়ে ধারণা তাহলেই সুন্দর ভাবে সামনে দিকে আগানো সম্ভব।
এর জন্য আমাদের দেশে বিভিন্ন উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং কৃষি বিষয়ক কোন উদ্যোগ নেওয়ার আগে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কৃষি বিষয়ক নানা ধারণা নিতে পারেন যারা এগ্রো নিয়ে কাজ করবে তারাও কৃষি অফিস থেকে এগ্রো বিষয়ক জানতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *